Showing posts with label টিপস. Show all posts
Showing posts with label টিপস. Show all posts

Friday, July 19, 2013

বর্তমানে স্মার্টফোনের অধিকাংশ অংশ জুড়ে আছে এন্ড্রোয়েড ফোন। অ্যাপস এবং বিভিন্ন সুবিধার জন্যই এর জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। আমরা অনেকেই ২০/৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটা স্মার্টফোন (এন্ড্রোয়েড) কিনি। তারপর সেটাকে কি কাজে ব্যবহার করি !!! বেশির ভাগই গেম খেলা, ৫/৬ টা দরকারি অ্যাপস ব্যবহার করা ইত্যাদি। কিন্তু এর মাধ্যমে যে আরও কিছু করা সম্ভব বা লাইফের অনেক কিছু সহজ করা সম্ভব তা আমরা চিন্তা করি না।
আজ এই পোস্ট লেখার উদ্দেশ্য হল এন্ড্রোয়েড ফোনকে প্রয়োগ করে কিভাবে আপনার লাইফকে সহজ করবেন। এন্ড্রোয়েডের কিছু অ্যাপস এর সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব যেগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার লাইফকে সহজ করতে পারবেন।

Maps

mp
এটা নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নাই; তো পুরাতন হিসাবেই বলি রাস্তা ভুলে গেলে বা নতুন জায়গায় গেলে Google Maps আপনার সঙ্গি। তবে আমাদের দেশের তুলনায় না কারন রাস্তা দেখার আগেই দেখবেন আপনার ব্যালেন্স বা ডাটা শেষ হয়ে গেছে। উন্নত দেশগুলোতে মোটামোটি সব জায়গায় WIFI থাকে তাই তারা খুব সহজেই এটা ব্যবহার করতে পারে। আসলেই নতুন জায়গায় গেলে খুবই কাজে লাগে এটা যদি ব্যবহার করতে পারেন তবে।

Calorific Diet Tracker

252
নাম শুনেই বুঝা যায় এটার কাজ কি হতে পারে। ডায়েট ট্র্যাকিং করে আই অ্যাপস। অবশ্য এটা ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের বেশি প্রয়োজন হবে। ডায়েট কন্ট্রোল এর সাথে জড়িত সব কিছুই পাবেন এতে। যারা ডায়েট করে তাদের হিসাব রাখার জন্য বা ট্র্যাকিং করার জন্য খুবই দরকারি অ্যাপস এটি।

Instant Heart Rate

556
সত্যি অসাধারন একটি অ্যাপস। এটি আপনার হার্ট বিট নির্ণয় করবে। যদিও আমি ডাক্তার না তবুও এত টুকু জানি হার্ট বিটের মাধ্যমেই সুস্থতার অনেক কিছু বুঝা যায়। তাই নিয়মিত হার্ট রেট জেনে রাখা দরকার। সাধারনত হার্ট রেট ৬০ এর মধ্যে থাকলে সেটা ভাল, ৬০ থেকে ৯০ থাকলে সেটা এভারেজ, ৯০ এর উপরে গেলে ভয়ানক !!!! তাই নিয়মিত হার্ট রেট জানাতে ইন্সটল করুন অ্যাপসটি। 

Sleepmeter

99
ভাল স্বাস্থ্যের জন্য সঠিক ঘুম আমাদের অবশ্যই দরকার কিন্তু আপনার সঠিক ঘুম হচ্ছে কিনা সেটাই তো আপনি জানেন না !!! জানেন ??? জানতে হলে এই অ্যাপসটি ব্যবহার করুন। নিয়মিত এটি ব্যবহার করলে আপনি আপনার আপনি বুঝতে পারবেন আপনার বিশ্রাম কম হচ্ছে নাকি সঠিক হচ্ছে। তো আজ থেকেই ব্যবহার করা শুরু করে দিন।

Cozi Family Calendar & Lists

558
আপনার ফ্যামিলি বকা আর শুনতে হবে না। শপিং লিস্ট, ইম্পরট্যান্ট কোন ইভেন্ট, নোটিশ সব কিছু এক সাথে হিসাব রাখতে পারবেন এতে। খুব সহজে প্রতিদিনের বা অগ্রিম শপিং লিস্ট, ইম্পরট্যান্ট কোন ইভেন্ট, নোটিশ ইত্যাদি অ্যাড করতে পারবেন কষ্ট করে মনে রাখতে হবে না। আপনার ফোনই আপনাকে মনে করিয়ে দিবে।

My Money

mm1

আপনার ইনকামের টাকা খুব সহজে ম্যানেজ করুন। আপনি যখন আপনার আয় ব্যায়ের হিসাব করতে পারবেন তখনই আপনি আপনার খরচকে কন্ট্রোল করতে পারবেন। এখানে আপনার নির্দিষ্ট বাজেট কে খুব সহজে আপনি ম্যানেজ করতে পারবেন। সত্যি এটা খুবই ইফেক্টিভ একটা অ্যাপস। ব্যবহার করুন তাহলেই বুঝতে পারবেন।

Habit Click

hbt
অভ্যাস সবারই আছে কারো বদ অভ্যাস আবার কারো ভাল অভ্যাস। তো ভাল অভ্যাস আমরা নিয়মিত করব কিন্তু খারাপ অভ্যাস গুলো কে অবশ্যই পরিত্যাগ করার চেষ্টা করব। জি আপনার অভ্যাসগুলোকে কন্ট্রোল করার জন্যই এই অ্যাপসটি। নিয়মিত আপনার অভ্যাস গুলোকে টার্গেট করুন এবং সেই ভালই ব্যবহার করুন। চেষ্টা করতে করতে দেখবেন একদিন আপনার বদ অভ্যাস গুলো ঠিকই পরিবর্তন হয়ে যাবে। আর এই অ্যাপসটির ইন্টারফেস সত্যি খুবই সুন্দর। ব্যবহার করেই দেখুন কেমন লাগে।

Catch Notes

ct
আমার খুব পছন্দের এবং সত্যি কাজের একটি অ্যাপস। আপনার পার্সোনাল, অফিসিয়াল সকল দরকারি নোট খুব সহজে রাখতে পারবেন। এর মাধ্যমে টেক্সট নোট, ভয়েস নোট, পিকচার রিমাইন্ডার, অ্যালার্ম ইত্যাদি করতে পারবেন।  এটা অফলাইনেও কাজ করে এবং সাথে সাথে অনলাইনে সংরক্ষণ করা যায়। আর ইন্টারফেস খুবই অসাধারন। প্রতি বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা রঙের ফোল্ডার করা যায়। ব্যবহার করুন অবশ্যই কাজে দিবে।

Life Reminders

life
আমার সবচেয়ে প্রিয় অ্যাপস এটি। আমার প্রতিদিন কাজে লাগে এই অ্যাপসটি। রিমাইন্ডার এর জন্য অসাধারন অ্যাপস এটি। খুব সহজ এবং ইফেক্টিভ একটি অ্যাপস। আপনার সকল কাজ আপনাকে মনে করিয়ে দিবে। প্রতিদিনের কাজ এবং ভবিষ্যৎ কাজ কোনটাই এখন মিস হবে না। ব্যবহার করলে আপনিও আমার মত এই অ্যাপসের প্রেমে পরে যাবেন।

OfficeSuite Viewer 7 + PDF&HD

ree
যে কোন ধরনের অফিস ফাইল খুব সহজেই ওপেন করতে পারবেন আপনার এন্ড্রোয়েড মোবাইলে। দরকারের সময় মোবাইল আপনার খুব কাজে দিবে। হুট হাট যে কোন জায়গায় অফিসিয়াল বা পার্সোনাল দরকারি ফাইল ওপেন করুন খুব সহজেই।

Smart Voice Recorder

tty
বুঝতেই পারছেন কি কাজের অ্যাপস এটি। যে কোন সময় ভয়েস রেকর্ড করার কাজে দিবে এটি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে ভয়েস রেকর্ড করার প্রয়োজন হয়। যেমনঃ ভার্সিটির ক্লাসে, অফিসের মিটিং এ, বন্ধুদের আড্ডায় ইত্যাদি সময়ে খুবই কাজে দেয় এই অ্যাপসটি।

Ridmik Bangla Dictionary

eerr
বাংলা ডিকশনারি এটি আমাদের জন্য খুব দরকারি একটি অ্যাপস। এটি অফলাইনে ব্যবহার করা যায়। বাংলা যতগুলো ডিকশনারি আমি দেখেছি তার মধ্যে বেশ ভাল এবং তথ্য সমৃদ্ধ অ্যাপস এটি। ব্যবহার করে দেখুন তাহলে বুঝতে পারবেন।

English Dictionary - Offline

dicঅফলাইন ইংরেজি ডিকশনারি মধ্যে বেশ ভাল অ্যাপস এটি। অনেক তথ্য সমৃদ্ধ ডিকশনারি এটি। পড়াশুনার কাজে অনেক সাহায্য হবে সবার জন্য।

Dropbox

db
Dropbox হল বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্লাউড স্টোরেজ। অফিসিয়াল, পার্সোনাল দরকারি দরকারি সব ফাইল আমরা ড্রপবক্সে রাখি আমরা। যে কোন সময় যে কোন জায়গায় খুব সহজেই আমাদের দরকারি ফাইল গুলো এক্সেস করতে পারব ড্রপবক্সের মাধ্যমে আপনার ফোন ব্যবহার করে। যারা এখনও ব্যবহার করেন নি তারা এখনই শুরু করে দিন - http://www.dropbox.com
এখানে যেই অ্যাপস গুলোর কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে সবগুলো হয়তো একজন ব্যাক্তির এক সাথে প্রয়োজন পড়বে না তবে আপনি আপনার কাজের ধরন বা আপনার সুবিধা অনুসারে অ্যাপস ইন্সটল করে নিতে পারেন এবং ব্যবহার করা শুরু করেন তাহলেই বুঝতে পারবেন এগুলো কিভাবে আপনার লাইফকে সহজ করছে।
নতুন এ্যন্ড্রয়েড ফোন কিনেছেন,স্বাভাবিকভাবেই চাইবেন এটা দেখতে অন্যদের থেকে একটু আলাদা হোক।প্লে স্টোরে অনেক আপস আছে যা আপনার এ্যন্ড্রয়েড ডিভাইসকে শুধূ গ্রেট লুকিং ই দেবেনা বরন দেবে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা।যেমন,স্ক্রীন লকার থেকে শুরু করে হোম স্ক্রীন,আপস সর্টকাট,উইডগেট ইত্যাদি।

কাস্টমাইজ লক স্ক্রিনঃ
এ্যন্ড্রয়েডের লক স্ক্রীন এমনিতেই গ্রেট তারপরো আপনি যদি ভিন্ন স্বাদ পেতে চান তাহলে ব্যাবহার করতে পারেন
Go locker:এই আপসে পাবেন বিভিন্ন ধরনের থিম এবং আপনি আপনার স্টাইল বেছে নিতে পারবেন।


Holo locker:অনেকটা জেলি বিনের মত লক সিস্টেম সিম্পল এবং দ্রুত।

কাস্টমাইজ হোম স্ক্রীনঃ
এখন হোম স্ক্রীনে বিভিন্ন ধরনের অয়াল পেপার এবং ল্যাঞ্ছার ব্যাবহার করতে পারেন এর মধ্যে আছে

Photosphere live wallpaper: এই আপসের মাধ্যমে ফটোস্পায়ার ইমেজ লাইভ ওয়াল পেপার হিসাবে ব্যাবহার করা যাবে।


Apex launcher:অত্যন্ত জনপ্রিয়  এ্যন্ড্রয়েড ল্যাঞ্ছার ,এই আপসএর মাধ্যমে আইকন কাস্টমাইযেশন,স্ক্রাবল ডক,ফ্যান্সি ট্রান্সিশন এফেক্ট,ফোল্ডার প্রিভিউ স্টাইলসহ অনেক অপশন আছে।


Go launcher EX:এটাও অসাধারণ ল্যাঞ্ছার।নতুন থিম ডাউনলোড করা যাবে।


কাস্টমাইজ নোটিফিকেশন এবং উইডগেটঃ
নোটিফিকেশন সিস্টেম এ্যন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে।এর  নোটিফিকেশন সিস্টেম এর জন্য ব্যাবহারকারী আপ টু ডেট থাকতে পারে।
Light flow lite:শুধু মাত্র এল ই ডি সাপোর্টেড স্মার্টফোনের জন্য।


Appkicker:সাধারণ একটি এ্যন্ড্রয়েড উইডগেট যার মাধ্যমে আপনার সচারচর ব্যাবহৃত আপস গুলো লিস্ট আকারে রাখে যার ফলে পরিবর্তিতে সহজে প্রবেশ করা যায়।


Beautiful widgets free:প্রথমে এটা পেইড আপস থাকলেও এখন এটা ফ্রি আপস।ব্যবহার করেই দেখেন

Friday, May 17, 2013


ফিচার ফোন থেকে অ্যান্ড্রয়েডে চলে আসার পর প্রথম যেই জিনিসটা আমরা মিস করতে শুরু করি তা নিঃসন্দেহে ব্যাটারি ব্যাকআপ। যেখানে সাধারণত অন্যান্য ফিচার ফোনে ৩ থেকে ৪ দিন এমনকি তারও বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যায়, সেখানে দামি অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো দুইদিন টানা ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতেই হিমশিম খেয়ে যায়। অনেক দামি বা হাই-এন্ড স্মার্টফোনগুলোর ব্যাটারি লাইফ তুলনামূলক বেশি হলেও আমরা যারা স্বল্প বাজেটে লো থেকে মিড-রেঞ্জের স্মার্টফোন কিনি, তারাই ব্যাটারির খুব শর্ট ব্যাকআপজনিত সমস্যার সম্মুখীন হই।
আসুন জেনে নেয়া যাক মাত্র কয়েকটি টিপস কাজে লাগিয়ে যেভাবে আপনি আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

ডিসপ্লে ব্রাইটনেস

যে কোনো সময় সেটিংস থেকে ব্যাটারি ইউসেজে পরীক্ষা করলে দেখবেন প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যাটারিই ফোনের পর্দা বা ডিসপ্লে টানতে থাকে। আপনার ফোনের বাড়তি রেজুলেশনের জন্যই এটি অন্যান্য ফিচার ফোনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাটারি পাওয়ার খরচ করে। ডিসপ্লে তো আর সারাক্ষণ বন্ধ করে রাখতে পারবেন না, তাই সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ হবে এর ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা।
ফোনের ডিসপ্লে ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখলে অনেকের কাছেই দেখতে ভালো না লাগলেও এটা আপনার ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়িয়ে দেবে অনেকখানি। সবচেয়ে ভালো হয় যতোটা সম্ভব ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখলে। ৫০%-৬০% এর দিকে ডিসপ্লে ব্রাইটনেস রাখলে পরদিনই টের পাবেন আপনার স্মার্টফোন কত কম ব্যাটারি খরচ করছে।
ডিসপ্লে ব্রাইটনেস সেটিংস থেকে ডিসপ্লে অপশনেই কমাতে পারবেন।

ডেটা ট্রান্সফার অফ

অ্যান্ড্রয়েড ব্যাটারি
সনি এরিকসন এক্সপেরিয়া মিনি প্রো সেটে ২৪ ঘণ্টারও কম সময় থেকে বাড়িয়ে ৪৮+ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ আনা সম্ভব হয়েছে ডেটা ট্রাফিক টানা চালু না রেখে।
বিদেশের ক্ষেত্রে প্রায় প্রতিটা গলি-ঘুপচিতেই ওয়াই-ফাই হটস্পট রয়েছে তাই বলা হয় ওয়াই-ফাই যত কম চালানো যাবে ততোই ব্যাটারি খরচ কমবে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা বেশিরভাগ সময়ই সেলুলার নেটওয়ার্ক বা জিপিআরএস/এজ ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি। কম্পিউটারের মতোই স্মার্টফোন সারাক্ষণই ডেটা ট্রান্সফার করতে থাকে বলে সাধারণত ১ গিগাবাইট বা এরকম প্যাকেজ কিনলে সাশ্রয়ী হয়। কিন্তু এভাবে কিন্তু আপনি প্রচুর ব্যাটারিও খরচ করছেন।
আমরা সবাই চাই নতুন স্মার্টফোন সবসময় আমাকে অনলাইন রাখুক। বন্ধু ফেসবুকে মেসেজ দেয়ামাত্রই তা পুশ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানান দিক। ইমেইল আসা মাত্রই মোবাইল অ্যালার্ট দিক। কিন্তু এসবের জন্য আপনি যে ব্যাটারি খরচ করছেন, তা কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত?
বাসায় থাকলে হয়তো প্রতিদিন ব্যাটারি রিচার্জ করতে পারবেন। কিন্তু যদি বাইরে ঘোরাঘুরি করেন, তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হবে ডেটা ট্রাফিক অফ করে দেয়া। এর মাধ্যমে আপনি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিচ্ছেন। ফলে মোবাইলের ব্যাটারি ব্যাকআপ বেড়ে যাবে নাটকীয়ভাবে। যখন ফেসবুক বা ইমেইল চেক করার দরকার হবে, কেবল মোডটি অন করে নিলেই হবে। আপনি মূহুর্তেই কানেক্টেড হয়ে যাবেন।
ডেটা ট্রাফিক অফ করতে সেটিংস থেকে Wireless & Networks > Mobile Networks > Data Traffic Enabled-টি থেকে টিকচিহ্ন তুলে দিন। এছাড়াও হোম স্ক্রিনেও উইজেট হিসেবে ওয়ান টাচ অন/অফ করার জন্য ডেটা ট্রাফিক আইকনটি যোগ করে নিন।

জিপিএস অফ

জিপিএস অফ রাখলে আপনার ব্যাটারি ব্যাকআপ বেড়ে যাবে বহুগুণে। খেয়াল করলে দেখবেন, জিপিএস সেটিংসের নিচেই লেখা রয়েছে যে এটি আপনার ফোনের ব্যাটারি টানবে প্রচুর। এটি বন্ধ করে রাখলে আপনি অনেক ব্যাটারি পাওয়ার বাঁচাতে পারবেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, জিপিএস অফ রেখেও আপনি লোকেশন-শেয়ারিং সুবিধাগুলো পাবেন। স্মার্টফোনের এ-জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনি যেই এলাকার মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছেন, সেই টাওয়ারের ঠিকানা অনুযায়ী আপনার অবস্থান বের করা যায়। তাই চেক-ইন বা জিওট্যাগ করার জন্য জিপিএস চালু রাখতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
এ-জিপিএস রয়েছে এমন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সেটিংস থেকে Location & Security > Use Wireless Networks-এ টিকচিহ্ন দিন।
উপরের তিনটি সাধারণ উপায় অবলম্বন করে আপনি অবিশ্বাস্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারবেন আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ। গুগল প্লে স্টোরে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর জন্য অনেক অ্যাপ্লিকেশন থাকলেও নিজে সতর্ক ও সচেতন থাকলে এমনিতেই ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়িয়ে তোলা যায়।
অ্যান্ড্রয়েড ফোন আমাদের অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত এগিয়ে চলার অন্যতম উদাহরণ এই স্মার্টফোন। কী নেই এতে? জিপিএস-এর মাধ্যমে নিজের অবস্থান দেখা, ছবি তোলার মাধ্যমে ফেসবুকে শেয়ার করা, জনপ্রিয় সব সেবার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা কিংবা হাই-ডেফিনিশন গেম খেলা। এ সবই সম্ভব অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে। কিন্তু নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন হাতে পাবার পর অনেকেই ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না কীভাবে কী করবেন। তাই আপনি যদি নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনে থাকেন, তাহলে এই পোস্ট আপনারই জন্য। এখানে আমরা জানাচ্ছি যে ১৫টি বিষয় অ্যান্ড্রয়েড কেনার পর আপনার জানা প্রয়োজন।


গুগল অ্যাকাউন্ট

প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের প্রধান করণীয় হচ্ছে গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করা। আপনি গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করতে বাধ্য নন। তবে গুগল অ্যাকাউন্ট সেট আপ না করলে আপনি অ্যান্ড্রয়েডের আসল অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই আপনার জিমেইল/গুগল অ্যাকাউন্টটি প্রথমেই যোগ করে নিতে ভুলবেন না।

গুগল সার্ভারে ব্যাকআপ

প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বেসিক সেটিংসগুলো বিনামূল্যেই গুগলের সার্ভারে ব্যাকআপ রাখার অপশন রয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ সেটিংসগুলো আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে সিংক্রোনাইজ হয়ে যাবে। এই সুবিধাটি ফ্যাক্টরি রিসেট দিলে কাজে আসে। আর গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করার কাজ সম্পন্ন হলে পরের স্ক্রিনেই এই চেকবক্সটি পাবেন। এটি টিক দেয়ায় আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে।

অটোমেটিক আপডেট

অ্যান্ড্রয়েড কেনার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই নিশ্চয়ই অনেক অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে ফেলেছেন? কিন্তু ইন্সটল করার সময় কি “Allow automatic updating” চেকবক্সটিতে টিক দিয়েছেন? এই চেকবক্সে টিক দিলে কোনো অ্যাপ্লিকেশনের আপডেট পাওয়ামাত্রই তা আপডেট হয়ে যাবে। ফলে আপনি সবসময়ই থাকবে সর্বশেষ সংস্করণে। ইন্টারনেট নিয়ে অসুবিধা না থাকলে এই সুবিধা চালু করে রাখাই শ্রেয়।


গুগল ম্যাপস অফলাইন

জিপিএস পরীক্ষা করার জন্যও বোধহয় এতক্ষণে গুগল ম্যাপস চালু করে ফেলেছেন, তাই না? তবে কেমন হবে যদি আপনি গুগল ম্যাপস দেখে কোনো বন্ধুর বাসা কিংবা রেস্তোরাঁ খুঁজতে বের হন কিন্তু মাঝ পথে ইন্টারনেট সংযোগ চলে যায়? খুবই ভয়াবহ ব্যাপার, তাই না? বিশেষ করে রেস্তোরাঁটি যদি কোনো বন-জঙ্গলে অবস্থিত হয়! :P আপনার এমন পরিস্থিতির কথা কিন্তু আগে থেকেই ভেবে রেখেছে গুগল। আর তাই তাদের ম্যাপস অ্যাপ্লিকেশনে রয়েছে অফলাইন সুবিধা।
এ জন্য প্রথম ওয়াই-ফাই-এ সংযুক্ত হোন এবং যেই এলাকায় কিছু খুঁজছেন সেই এলাকার ম্যাপ (একটু উপর থেকে) স্ক্রিনে আনুন। তারপর নিচের ডানদিকের মেনুতে ট্যাপ করে Make available offline লেখায় ক্লিক করলে গুগল স্ক্রিনে প্রদর্শিত এলাকার বিস্তারিত ডেটা ডাউনলোড করে রাখবে। ফলে খোঁজাখুজির সময় লোডিং বা ইন্টারনেট ছাড়াই স্ট্রিট লেভেল ম্যাপ দেখতে পাবেন গুগল ম্যাপসে।

সোশাল নেটওয়ার্কিং অ্যাকাউন্ট

সেটিংস থেকে আপনি আরও বিভিন্ন সোশাল নেটওয়ার্কিং-এর অ্যাকাউন্ট যোগ করতে পারবেন। লাভ? দুই ধরনের। প্রথমটি হচ্ছে এসব নেটওয়ার্ক থেকে পুশ নোটিফিকেশন পেতে পারবেন। যেমন টুইটারে কেউ মেনশন করলে বা ফেসবুকে কেউ মেসেজ পাঠালে স্ট্যাটাসবারেই সেটা দেখাবে। অবশ্য আপনি চাইলে এগুলো বন্ধও করে রাখতে পারবেন।
দ্বিতীয় বড় সুবিধাটি হচ্ছে নিচে।

শেয়ার করুন সবখানে

যেমনটা উপরের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন, অ্যাকাউন্ট যোগ করার মাধ্যমে আপনি যে কোনো ছবি বা ভিডিও গ্যালারি থেকেই সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে শেয়ার করতে পারবেন। দ্রুত ছবি শেয়ার করার ক্ষেত্রে এটি বেশ কাজের। তবে এভাবে অ্যাকাউন্ট যোগ না করেও যেই অ্যাকাউন্ট যোগ করবেন তাদের অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করলেও হবে। যেমন ইন্সট্যাগ্রাম ইন্সটল করলে এই শেয়ার মেনুতে ইন্সট্যাগ্রামও চলে আসবে।


উইজেট ও শর্টকাট

উইজেটকে সহজভাবে বলা যায় মূল অ্যাপ্লিকেশনের ছোট সংস্করণ যেটি আপনার হোমস্ক্রিনে থাকে ও বিভিন্ন বিষয়ে লাইভ আপডেট দিয়ে থাকে। যেমন আবহাওয়ার উইজেট দেবে আবহাওয়া সংক্রান্ত লাইভ আপডেট। ঘড়ির উইজেট দেবে সময় সংক্রান্ত খবর। সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশনের উইজেট দেবে হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন তথ্য ইত্যাদি। এসব উইজেট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটলের সঙ্গেই চলে আসে। আপনি অ্যান্ড্রয়েড ২.৩ জিঞ্জারব্রেডে হোমস্ক্রিনে লম্বা সময় প্রেস করে ও অ্যান্ড্রয়েড ৪ আইসক্রিম স্যান্ডউইচে অ্যাপ্লিকেশন ড্রয়ারের উইজেট অপশন থেকে আপনার ডিভাইসে সহজলভ্য উইজেটগুলো হোমস্ক্রিনে যোগ করতে পারবেন।
অন্যদিকে অ্যাপ্লিকেশন শর্টকাট হচ্ছে অনেকটা কম্পিউটারের ডেস্কটপ আইকনের মতো। এর মাধ্যমে আপনি হোমস্ক্রিন থেকেই মূল অ্যাপ্লিকেশনে যেতে পারবেন।

সেটিংস কন্ট্রোলার উইজেট

বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েডেই উপরের ছবির মতো একটি উইজেট থাকে যেটি হোমস্ক্রিন থেকেই আপনাকে ডিভাইসের বিভিন্ন সেন্সর ও নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি অন/অফ করার সুবিধা দিয়ে থাকে। এটি অনেক কাজে আসে ও সময় বাঁচায়। এই উইজেটটি খুঁজে বের করুন ও হোমস্ক্রিনে যোগ করুন।

শর্টকাট রিমুভ

কোনো অ্যাপ্লিকেশন শর্টকাট মুছে ফেলতে চাচ্ছেন কিন্তু উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না? আইকনটির উপর প্রেস করে ধরে রাখুন, দেখবেন স্ক্রিনের উপরে বা নিচে Remove লেখা উঠেছে। আইকনটি সেখানে ড্র্যাগ করে নিলেই সেটি স্ক্রিন থেকে বিদায় নেবে।

হোম ফোল্ডার

হোমস্ক্রিনে অতিরিক্ত শর্টকাট আইকন হয়ে গেছে? আপনি চাইলে এক জাতীয় অ্যাপ্লিকেশনগুলোর আইকন একটি ফোল্ডারে ঢুকিয়ে রাখতে পারেন। এ জন্য একটি আইকন অপর আরেকটি আইকনের উপর ড্র্যাগ করে ছেড়ে দিন। নতুন ফোল্ডার তৈরির ডায়ালগ বক্স আসবে। এরপর থেকে যে কোনো আইকন ঐ ফোল্ডারের উপর ছেড়ে দিলে ফোল্ডারেই ঢুকে যাবে সেই অ্যাপ্লিকেশনের শর্টকাট আইকন।

আননোস সোর্সেস

আমরা সবাই কমবেশি গুগল প্লে ছাড়া অন্যত্র থেকে অ্যাপ্লিকেশন বা গেমস ডাউনলোড করে রাখি। যদিও এটি পুরোপুরি নিরাপদ না।
গুগল প্লে স্টোর ব্যতীত অন্য স্থান থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করতে হলে সেটিংস থেকে অবশ্যই Unknown Sources চেকবক্সটিতে টিক দিতে হবে। নইলে অ্যান্ড্রয়েডের সিকিউরিটি পলিসি আপনাকে কোনোভাবেই অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করতে দেবে না। এই অপশনটি সেটিংসের সিকিউরিটি মেনুতে খুঁজে পাবেন।

ভয়েস অ্যাসিসট্যান্স

নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণগুলোয় গুগল নাও নামের একটি সুবিধা রয়েছে যেটি অনেকটা আইফোনের সিরির মতো। এটি এক প্রকার ভয়েস অ্যাসিসট্যান্ট। এর মাধ্যমে আপনি কাউকে কল করা, এসএমএস পাঠানো, গুগলে খোঁজ করা, গুগল ম্যাপসে ডিরেকশন খোঁজ করা ইত্যাদি ডিভাইসের প্রায় সব কাজ নিমিষেই করতে পারবেন কেবল ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে। তবে গুগল নাও-এর ভয়েস রিকগনিশন সাধারণত পারফেক্ট উচ্চারণের ইংরেজি ছাড়া বুঝতে পারে না। কাজেই, আপনার কথা না বুঝলে রাগ করার কিছু নেই!
তবে গুগল ম্যাপসে খোঁজাখুজির ক্ষেত্রে গুগল নাও বাংলাদেশে কাজ নাও করতে পারে।

মাল্টিটাস্কিং

উইন্ডোজে নিশ্চয়ই Alt+Tab প্রচুর চাপা হয়। অ্যান্ড্রয়েডে সেটা না পেলেও একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন চালু রাখার সুবিধা কিন্তু রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ৪ বা আইসক্রিম স্যান্ডউইচ ও এর পরের সংস্করণগুলোয় যে কোনো চলমান অ্যাপ্লিকেশন থেকে হোম আইকনে প্রেস করার মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশনটি বন্ধ না করেও হোমস্ক্রিনে যেতে পারবেন। আর দু’টি অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে সুইচ করতে দু’টি বক্সের ছবি সম্বলিত আইকনে প্রেস করলেই সাম্প্রতিক ও ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অ্যাপ্লিকেশনগুলোর তালিকা দেখতে পাবেন।

নোটিফিকেশন পুল-ডাউন মেনু

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের উপরের দিক থেকে নিচের দিকে সোয়াইপ করলে নেমে আসবে নোটিফিকেশন পুল-ডাউন মেনু। এখানে আপনি বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের নোটিফিকেশন, মিস কল, আনরেড এসএমএস ইত্যাদি সব দেখতে পাবেন। আইসক্রিম স্যান্ডউইচ ব্যবহারকারীরা এখান থেকে সরাসরি সেটিংসেও যেতে পারবেন। আর কোনো নোটিফিকেশন মুছে ফেলতে চাইলে তা টাচ করে ডান দিকে বা বামদিকে সোয়াইপ করলেই হবে।

প্লে স্টোর/গুগল অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন না?

অনেকেই অভিযোগ করছেন তারা গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করতে পারছেন না বা প্লে স্টোরে ঢুকতে পারছেন না। বলা বাহুল্য, এই সমস্যাটি বাংলাদেশ সরকারের ইউটিউব ব্লক করে দেয়ারই ফল। গুগলের বিভিন্ন সেবা ইউটিউবের আইপি ব্যবহার করে বলেই এই সমস্যা পোহাতে হচ্ছে আমাদের। আপনি দু’ভাবে প্লে স্টোরে ঢুকতে বা গুগল অ্যাকাউন্ট যোগ করতে পারেন। যদি মোবাইলে গ্রামীণফোন বা অন্য কোনো সিমের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাহলে সুপারফ্রিভিপিএন-এর মাধ্যমে অথবা রুট করা ডিভাইসে হটস্পটশিল্ড ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার ডিভাইসের কোনো সমস্যা নয়। কাজেই, নতুন অ্যান্ড্রয়েড নষ্ট এমন মনে করার কোনো কারণ নেই।

শেষ কথা

আপনার অ্যান্ড্রয়েড হচ্ছে আপনার স্মার্টফোন। এখানে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করতে পারবেন। নতুন অ্যান্ড্রয়েড হলে তো কথাই নেই। আর অ্যান্ড্রয়েডের আওতা এতোই বিশাল যে আপনি জানতে চাইলে এর জানার কোনো শেষ নেই। কাস্টম রম, কার্নেল, রুট ইত্যাদি অনেককিছু জড়িয়ে আছে অ্যান্ড্রয়েডের জগতকে ঘিরে।